মানসিক চাপ

মানসিক চাপ এক বিশ্বব্যাপী শব্দ। আপনি যেখানেই যান না কেন শব্দটি সবার দ্বারাই ব্যবহৃত হয়। এখন পর্যন্ত এর কোনো স্পষ্ট পরিভাষা খোঁজা সম্ভব হয় নি। মেডিকেল সায়েন্স মানসিক চাপকে এভাবে ব্যাখ্যা করে- এটা হচ্ছে শরীর দ্বারা এক বিশিষ্ট প্রতিক্রিয়া, তা সেটা শারীরিক, মানসিক, কাল্পনিক বা বাস্তবিক হোক- মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোন্স এসিটিএইচ এবং কোর্টিসোল স্রাব। মানসিক চাপের কারণে উত্তেজিত হওয়া আরও দুটো হরমোন্স হচ্ছে এড্রেন্যালাইন এবং নন-এড্রেন্যালাইন। মানসিক চাপের আরও বেশি ব্যবহারিক ব্যাখ্যা এভাবে দেওয়া যেতে পারে- যখন জীবনের চাহিদাগত সমস্যা, সমাধানের সামর্থ্যরে চেয়ে বেশি হয়ে পড়ে, তখন মানসিক চাপ অনুভূত হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মানসিক চাপ শুধুমাত্র বাইরের জিনিস বা সমস্যার কারণে হয় না। বরং ভেতরগত কারণেও সৃষ্টি হতে পারে, যা আশা, ভয় বা বিশ্বাসের কারণে হয়।

মানসিক চাপের সঙ্গে যুক্ত রোগ

আজ থেকে কয়েক বছর আগে পর্যন্ত আধুনিক বিজ্ঞান মানসিক চাপকে রোগ সৃষ্টির কারণ হিসেবে বিবেচনা করত না। রক্তচাপ, হৃদরোগ, পেপ্টিক আলসার এসব রোগ উচ্চ পদস্থ এক্সিকিউটিভদের এক সাধারণ ব্যাপার- যা কিনা গ্রামে বাস করা সরল সহজ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভাবা হয় না। এই তথ্যকে শুধুমাত্র অত্যধিক মানসিক চাপের ভিত্তিতেই খুলে বলা যেতে পারে। গত কয়েক দশকে জনসংখ্যা সম্বন্ধীয় অধ্যয়ন এবং নিরীক্ষণ প্রমাণ করেছে যে, কিছু সাধারণ রোগ হচ্ছে অত্যধিক মানসিক চাপেরই প্রত্যক্ষ পরিণাম। এখন এগুলোকে সাইকোসোম্যাটিক রোগের শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। এ সব সাধারণ রোগের একটা সূচি এখানে দেওয়া হলো।
১. উচ্চ রক্তচাপ
২. অ্যানজাইনা বা বুকের যন্ত্রণা
৩. হার্ট অ্যাটাক
৪. মানসিক চাপপূর্ণ মাথা যন্ত্রণ
৫. আধকপালীর যন্ত্রণা
৬. পিঠের যন্ত্রণা
৭. কাঁধের যন্ত্রণা
৮. স্পন্ডেলাইটিস
৯. কাঁপুনী
১০. অ্যালার্জি
১১. হাঁপানি
১২. অত্যধিক ক্লান্তি এবং অলসতা
১৩. খিটখিটে স্বভাব
১৪. অনাবশ্যক ভয়
১৫. অনিদ্রা
১৬. ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম
১৭. নিরাশা
১৮. পেপ্টিক আলসার
১৯. মহিলাদের মধ্যে মাসিক ধর্মের আগে সিন্ড্রোম
আপনি কি এগুলোর মধ্যে কোনো রোগে পীড়িত? যদি হন, তাহলে নিজের প্রতি সৎ থাকুন এবং চেনার চেষ্টা করুন। নিজের সমস্যাগুলোকে বুঝুন এবং সেগুলোর মাত্রাকে বোঝার চেষ্টা করুন। এটা সমাধান খুঁজে বের করতে আপনাকে সহায়তা করবে।