অ্যানজাইনা(বুকের ব্যথা)

অ্যানজাইনা যেভাবে চিনবেন

বুকের যন্ত্রণা বাম হাতের দিকে যাবার লক্ষণ থাকলে বুঝতে হবে হার্টের ধমনীতে ব্লকেজ থাকার সম্ভাবনা আছে। এ অবস্থায় পরিশ্রম করলে যন্ত্রণা বাড়ে, বিশ্রাম করলে যন্ত্রণা চলে যায়। এ যন্ত্রণা খাওয়ার পরে ফুটে ওঠে, বিশেষ করে ভারী খাবার খাওয়ার পরে। অনেক রোগী পরিশ্রম করার পর বুকে যন্ত্রণা নয়, বরং শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্টের অভিযোগ করেন। এসব রোগীর মধ্যে অনেকের ওজন বেশি হয় এবং তাঁদের ডায়াবেটিসও থাকে। হার্টের জোরে জোরে স্পন্দিত হওয়াটাও হৃদরোগের একটি সাধারণ লক্ষণ। বুকে জ্বালাপোড়া, আঁকড়ানো ভাবের অনুভূতি, অস্থিরতা, বুকে যন্ত্রণা, কখনো কখনো কাঁধে যন্ত্রণা, কখনো বুকের ডান দিকে বা চোয়ালে যন্ত্রণা- এসবই হৃদরোগের ঈঙ্গিত করে। কোনো বয়সই অ্যানজাইনা থেকে মুক্ত হয় না। প্রাথমিক বয়সেও অ্যানজাইনার লক্ষণ দেখতে পাওয়া সাধারণ ব্যাপার। এর প্রধান কারণ হার্টের রক্তনালিতে কোলেস্টেরল আর ট্রাইগ্লিসারাইড জমা বা স্তূপ হওয়া। অ্যানজাইনা ততক্ষণ পর্যন্ত হতে পারে না, যতক্ষণ না ব্লকেজ ৭০ শতাংশের বেশি হয়। কত সময়ে ব্লকেজ তৈরি হয় তা নির্ভর করে ব্যক্তির জীবনযাপন পদ্ধতি কতটা অপরিকল্পিত বা ত্রুটিপূর্ণ তার ওপর। মানসিক চাপ যদি সবসময় প্রধান হয়ে থাকে, তাহলে অ্যানজাইনা ২৫ বছর বয়সেও হতে পারে। আগে অ্যানজাইনা ৫০-৬০ বছর বয়সে দেখতে পাওয়া যেত। এখন ৩০-৩৫ বছর বয়সেরও অ্যানজাইনার রোগী দেখা যায়। অ্যানজাইনা চিনতে পারাটা রোগ সম্বন্ধে জ্ঞান আর শারীরিক ক্রিয়াশীলতার ওপর নির্ভর করে। যখন কোনো ব্যক্তি মাঝে মাঝে শারীরিক পরিশ্রম করায় হার্টের গতি ১২০-১৩০/প্রতি মিনিটের বেশি হয়, তখন অ্যানজাইনাকে সহজে চেনা যায়। যেসব ব্যক্তি শারীরিক পরিশ্রম করেন না, তাঁরা অনেক পরে অ্যানজাইনাকে চিনতে পারেন। পরিশ্রমের অভাবে তাঁদের হার্টের গতি ১২০-১৩০/প্রতি মিনিটের ওপরে কখনোই পৌঁছতে পারে না। এমন নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিরা কখনো কখনো হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন, যার পরিণাম দুঃখজনক হতে পারে। কারণ তাঁরা নিজের অ্যানজাইনাকে দ্রুত চিনে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে উঠতে পারেন না।অ্যানজাইনা যন্ত্রণার পরিবর্তিত রূপ
অ্যানজাইনা সাধারণত বেশি দেখতে পাওয়া রোগ। তবে তা হার্টের ধমনীতে ব্লকেজ ৫০ শতাংশের নিচে সীমিত থাকা পর্যন্ত নয়। যদি হার্টের ধমনীতে ব্লকেজ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে সীমিত থাকা সত্ত্বেও অ্যানজাইনা হয়, তাহলে তা আকস্মিক করোনারি ধমনীর অত্যধিক স্পন্দনে হয়। নিচের তালিকায় অ্যানজাইনার কিছু বিশেষ কারণ দেওয়া হল-
১. বুকে যন্ত্রণা- হার্ট অ্যাটাকের যন্ত্রণা সুতীব্র হয়। কিন্তু অ্যানজাইনার যন্ত্রণা হালকা থেকে শুরু করে তীব্র পর্যন্ত হতে পারে। এ যন্ত্রণা প্রায়ই বুকের ঠিক মাঝখানে ওঠে এবং কাঁধের দিকে এগোতে থাকে। কখনো ডান কাঁধ এবং নিচের চোয়ালের দিকে যন্ত্রণা এগোতে থাকে। যন্ত্রণা পাঁচ থেকে দশ মিনিট পর্যন্ত থাকে।
২. শ্বাস বড় বা শ্বাস ছোট হয়ে পড়া।
৩. ঘাম আসা।
৪. শরীর অস্বস্তি বা বমি হওয়া।
৫. মাথা ঘোরা বা মূর্ছিত হওয়া।
৬. বুকে ব্যথা বা চাপ বোধ করা। বিশেষ করে খাবার খাওয়ার পরে।
৭. গলায় আঁকড়ানো ভাবের অনুভূতি হওয়া।
৮. বুক বা পেটের ওপরের দিকে চাপ বা আঁকড়ানো ভাব হওয়া।
৯. দুর্বলতা বা সহজে ক্লান্ত বোধ করা।